https://www.blogger.com/blogger.g?blogID=8701615511868278284#editor/src=sidebar
উহারা প্রচার করুক হিংসা বিদ্বেষ আর নিন্দাবাদ; আমরা বলিব সাম্য শান্তি এক আল্লাহ জিন্দাবাদ। উহারা চাহুক সংকীর্ণতা, পায়রার খোপ, ডোবার ক্লেদ, আমরা চাহিব উদার আকাশ, নিত্য আলোক, প্রেম অভেদ।
কবি
আহসান হাবীব
(1)
এখলাছ
(22)
কাজী নজরুল ইসলাম
(3)
জসীমউদ্দীন
(9)
জীবনানন্দ দাশ
(10)
ফররুখ আহমদ
(1)
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
(2)
রফিক আজাদ
(2)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(3)
শামসুর রাহমান
(1)
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
(2)
সুকুমার রায়
(3)
হেলাল হাফিজ
(1)
আসমানী
জসীমউদ্দীন
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও,
রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক’খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরণে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালী তার গার বরণের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশীর মত সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।
আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানীদের চলে।
পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।
খোসমানী আর আসমানী যে রয় দুইটি দেশে,
কও তো যাদু, কারে নেবে অধিক ভালবেসে?
রহিমন্দীর ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
বাড়ি তো নয় পাখির বাসা-ভেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে,
তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের ক’খান হাড়,
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ-রাশি
থাপড়েতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি।
পরণে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস,
সোনালী তার গার বরণের করছে উপহাস।
ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাই কৌতুক-হাসি,
সেখান দিয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু রাশি রাশি।
বাঁশীর মত সুরটি গলায় ক্ষয় হল তাই কেঁদে,
হয়নি সুযোগ লয় যে সে-সুর গানের সুরে বেঁধে।
আসমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে
ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে।
ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিছে জলে,
সেই জলেতে রান্না খাওয়া আসমানীদের চলে।
পেটটি তাহার দুলছে পিলেয়, নিতুই যে জ্বর তার,
বৈদ্য ডেকে ওষুধ করে পয়সা নাহি আর।
খোসমানী আর আসমানী যে রয় দুইটি দেশে,
কও তো যাদু, কারে নেবে অধিক ভালবেসে?
এত হাসি কোথায় পেলে
জসীমউদ্দীন
এত হাসি কোথায় পেলে
এত কথার খলখলানি
কে দিয়েছে মুখটি ভরে
কোন বা গাঙের কলকলানি।
কে দিয়েছে রঙিন ঠোঁটে
কলমী ফুলের গুলগুলানি।
কে দিয়েছে চলন বলন
কোন সে লতার দোল দুলানী।
এত কথার খলখলানি
কে দিয়েছে মুখটি ভরে
কোন বা গাঙের কলকলানি।
কে দিয়েছে রঙিন ঠোঁটে
কলমী ফুলের গুলগুলানি।
কে দিয়েছে চলন বলন
কোন সে লতার দোল দুলানী।
কাদের ঘরে রঙিন পুতুল
আদরে যে টইটুবানি।
কে এনেছে বরণ ডালায়
পাটের বনের বউটুবানী।
কাদের পাড়ার ঝামুর ঝুমুর
কাদের আদর গড়গড়ানি
কাদের দেশের কোন সে চাঁদের
জোছনা ফিনিক ফুল ছড়ানি।
আদরে যে টইটুবানি।
কে এনেছে বরণ ডালায়
পাটের বনের বউটুবানী।
কাদের পাড়ার ঝামুর ঝুমুর
কাদের আদর গড়গড়ানি
কাদের দেশের কোন সে চাঁদের
জোছনা ফিনিক ফুল ছড়ানি।
তোমায় আদর করতে আমার
মন যে হলো উড়উড়ানি
উড়ে গেলাম সুরে পেলাম
ছড়ার গড়ার গড়গড়ানি।
মন যে হলো উড়উড়ানি
উড়ে গেলাম সুরে পেলাম
ছড়ার গড়ার গড়গড়ানি।
নিমন্ত্রণ
জসীমউদ্দীন
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া।
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া।
তুমি যাবে ভাই- যাবে মোর সাথে, ছোট সে কাজল গাঁয়,
গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়।
সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া
দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া,
বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়,
বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়!
গলাগলি ধরি কলা বন; যেন ঘিরিয়া রয়েছে তায়।
সরু পথ খানি সুতায় বাঁধিয়া
দূর পথিকেরে আনিছে টানিয়া,
বনের হাওয়ায়, গাছের ছায়ায়, ধরিয়া রাখিবে তায়,
বুকখানি তার ভরে দেবে বুঝি, মায়া আর মমতায়!
তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে – নরম ঘাসের পাতে
চম্বন রাখি অধরখানিতে মেজে লয়ো নিরালাতে।
তেলাকুচা – লতা গলায় পরিয়া
মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,
হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,
তোমার গায়ের রংখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।
চম্বন রাখি অধরখানিতে মেজে লয়ো নিরালাতে।
তেলাকুচা – লতা গলায় পরিয়া
মেঠো ফুলে নিও আঁচল ভরিয়া,
হেথায় সেথায় ভাব করো তুমি বুনো পাখিদের সাথে,
তোমার গায়ের রংখানি তুমি দেখিবে তাদের পাতে।
তুমি যদি যাও আমাদের গাঁয়ে, তোমারে সঙ্গে করি
নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী।
মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া
তোর সনে দেই মিতালী করিয়া
ঢেলা কুড়িইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি,
সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি।
নদীর ওপারে চলে যাই তবে লইয়া ঘাটের তরী।
মাঠের যত না রাখাল ডাকিয়া
তোর সনে দেই মিতালী করিয়া
ঢেলা কুড়িইয়া গড়ি ইমারত সারা দিনমান ধরি,
সত্যিকারের নগর ভুলিয়া নকল নগর গড়ি।
তুমি যদি যাও – দেখিবে সেখানে মটর লতার সনে,
সীম আর সীম – হাত বাড়াইলে মুঠি ভরে সেই খানে।
তুমি যদি যাও সে – সব কুড়ায়ে
নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে,
খাব আর যত গেঁঢো – চাষীদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে,
হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব দুইজনে।
সীম আর সীম – হাত বাড়াইলে মুঠি ভরে সেই খানে।
তুমি যদি যাও সে – সব কুড়ায়ে
নাড়ার আগুনে পোড়ায়ে পোড়ায়ে,
খাব আর যত গেঁঢো – চাষীদের ডাকিয়া নিমন্ত্রণে,
হাসিয়া হাসিয়া মুঠি মুঠি তাহা বিলাইব দুইজনে।
তুমি যদি যাও – শালুক কুড়ায়ে, খুব – খুব বড় করে,
এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে,
কারেও দেব না, তুমি যদি চাও
আচ্ছা না হয় দিয়ে দেব তাও,
মালাটিরে তুমি রাখিও কিন্তু শক্ত করিয়া ধরে,
ও পাড়াব সব দুষ্ট ছেলেরা নিতে পারে জোর করে;
এমন একটি গাঁথিব মালা যা দেখনি কাহারো করে,
কারেও দেব না, তুমি যদি চাও
আচ্ছা না হয় দিয়ে দেব তাও,
মালাটিরে তুমি রাখিও কিন্তু শক্ত করিয়া ধরে,
ও পাড়াব সব দুষ্ট ছেলেরা নিতে পারে জোর করে;
সন্ধ্যা হইলে ঘরে ফিরে যাব, মা যদি বকিতে চায়,
মতলব কিছু আঁটির যাহাতে খুশী তারে করা যায়!
লাল আলোয়ানে ঘুঁটে কুড়াইয়া
বেঁধে নিয়ে যাব মাথায় করিয়া
এত ঘুষ পেয়ে যদি বা তাহার মন না উঠিতে চায়,
বলিব – কালিকে মটরের শাক এনে দেব বহু তায়।
মতলব কিছু আঁটির যাহাতে খুশী তারে করা যায়!
লাল আলোয়ানে ঘুঁটে কুড়াইয়া
বেঁধে নিয়ে যাব মাথায় করিয়া
এত ঘুষ পেয়ে যদি বা তাহার মন না উঠিতে চায়,
বলিব – কালিকে মটরের শাক এনে দেব বহু তায়।
খুব ভোর ক’রে উঠিতে হইবে, সূয্যি উঠারও আগে,
কারেও ক’বি না, দেখিস্ পায়ের শব্দে কেহ না জাগে
রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে
ডানকিনে মাছ কিলবিল করে;
কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগে ভাগে
সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে।
কারেও ক’বি না, দেখিস্ পায়ের শব্দে কেহ না জাগে
রেল সড়কের ছোট খাদ ভরে
ডানকিনে মাছ কিলবিল করে;
কাদার বাঁধন গাঁথি মাঝামাঝি জল সেঁচে আগে ভাগে
সব মাছগুলো কুড়ায়ে আনিব কাহারো জানার আগে।
ভর দুপুরেতে এক রাশ কাঁদা আর এক রাশ মাছ,
কাপড়ে জড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ।
ওরে মুখ – পোড়া ওরে রে বাঁদর।
গালি – ভরা মার অমনি আদর,
কতদিন আমি শুনি নারে ভাই আমার মায়ের পাছ;
যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ।
কাপড়ে জড়ায়ে ফিরিয়া আসিব আপন বাড়ির কাছ।
ওরে মুখ – পোড়া ওরে রে বাঁদর।
গালি – ভরা মার অমনি আদর,
কতদিন আমি শুনি নারে ভাই আমার মায়ের পাছ;
যাবি তুই ভাই, আমাদের গাঁয়ে যেথা ঘন কালো গাছ।
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়।
ঘন কালো বন – মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়।
গাছের ছায়ায় বনের লতায়
মোর শিশুকাল লুকায়েছে হায়!
আজি সে – সব সরায়ে সরায়ে খুজিয়া লইব তায়,
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গায়।
ঘন কালো বন – মায়া মমতায় বেঁধেছে বনের বায়।
গাছের ছায়ায় বনের লতায়
মোর শিশুকাল লুকায়েছে হায়!
আজি সে – সব সরায়ে সরায়ে খুজিয়া লইব তায়,
যাবি তুই ভাই, যাবি মোর সাথে আমাদের ছোট গায়।
তোরে নিয়ে যাব আমাদের গাঁয়ে ঘন-পল্লব তলে
লুকায়ে থাকিস্, খুজে যেন কেহ পায় না কোনই বলে।
মেঠো কোন ফুল কুড়াইতে যেয়ে,
হারাইয়া যাস্ পথ নাহি পেয়ে;
অলস দেহটি মাটিতে বিছায়ে ঘুমাস সন্ধ্যা হলে,
সারা গাঁও আমি খুজিয়া ফিরিব তোরি নাম বলে বলে।
লুকায়ে থাকিস্, খুজে যেন কেহ পায় না কোনই বলে।
মেঠো কোন ফুল কুড়াইতে যেয়ে,
হারাইয়া যাস্ পথ নাহি পেয়ে;
অলস দেহটি মাটিতে বিছায়ে ঘুমাস সন্ধ্যা হলে,
সারা গাঁও আমি খুজিয়া ফিরিব তোরি নাম বলে বলে।
কবর-
জসীমউদ্দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিলাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোরে তামাশা করিত শত।
এমনি করিয়া জানি না কখন জীবনের সাথে মিশে
ছোট-খাট তার হাসি ব্যথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।
বাপের বাড়িতে যাইবার কাল কহিত ধরিয়া পা
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না হেস না শোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।
আমারে দেখিতে যাইও কিন্তু উজান-তলীর গাঁ।
শাপলার হাটে তরমুজ বেচি পয়সা করি দেড়ী,
পুঁতির মালার একছড়া নিতে কখনও হত না দেরি।
দেড় পয়সার তামাক এবং মাজন লইয়া গাঁটে,
সন্ধাবেলায় ছুটে যাইতাম শ্বশুরবাড়ির বাটে!
হেস না হেস না শোন দাদু, সেই তামাক মাজন পেয়ে,
দাদি যে তোমার কত খুশি হত দেখিতিস যদি চেয়ে!
নথ নেড়ে নেড়ে কহিত হাসিয়া, এতদিন পরে এলে,
পথ পানে চেয়ে আমি যে হেথায় কেঁদে মরি আঁখিজলে।
আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝঝুম নিরালায়!
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নসিব হয়।
তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।
যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।
শত কাফনের, শত কবরের অঙ্ক হৃদয়ে আঁকি,
গণিয়া গণিয়া ভুল করে গণি সারা দিনরাত জাগি।
এই মোর হাতে কোদাল ধরিয়া কঠিন মাটির তলে,
গাড়িয়া দিয়াছি কত সোনামুখ নাওয়ায়ে চোখের জলে।
মাটিরে আমি যে বড় ভালবাসি, মাটিতে মিশায়ে বুক,
আয়-আয় দাদু, গলাগলি ধরি কেঁদে যদি হয় সুখ।
এইখানে তোর বাপজি ঘুমায়, এইখানে তোর মা,
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমারে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শোওয়া তার শেষ শোওয়া হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!
কাঁদছিস তুই? কী করিব দাদু! পরাণ যে মানে না।
সেই ফালগুনে বাপ তোর এসে কহিল আমারে ডাকি,
বা-জান, আমার শরীর আজিকে কী যে করে থাকি থাকি।
ঘরের মেঝেতে সপটি বিছায়ে কহিলাম বাছা শোও,
সেই শোওয়া তার শেষ শোওয়া হবে তাহা কী জানিত কেউ?
গোরের কাফনে সাজায়ে তাহারে চলিলাম যবে বয়ে,
তুমি যে কহিলা বা-জানরে মোর কোথা যাও দাদু লয়ে?
তোমার কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে,
সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে গেল দুখে!
তোমার বাপের লাঙল-জোয়াল দুহাতে জঢ়ায়ে ধরি,
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।
তোমার মায়ে যে কতই কাঁদিতে সারা দিনমান ভরি।
গাছের পাতার সেই বেদনায় বুনো পথে যেতো ঝরে,
ফালগুনী হাওয়া কাঁদিয়া উঠিত শুনো-মাঠখানি ভরে।
পথ দিয়া যেতে গেঁয়ো পথিকেরা মুছিয়া যাইত চোখ,
চরণে তাদের কাঁদিয়া উঠিত গাছের পাতার শোক।
আথালে দুইটি জোয়ান বলদ সারা মাঠ পানে চাহি,
হাম্বা রবেতে বুক ফাটাইত নয়নের জলে নাহি।
গলাটি তাদের জড়ায়ে ধরিয়া কাঁদিত তোমার মা,
চোখের জলের গহীন সায়রে ডুবায়ে সকল গাঁ।
ঊদাসিনী সেই পল্লী-বালার নয়নের জল বুঝি,
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়নজলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণব্যথার ছলে।
কবর দেশের আন্ধারে ঘরে পথ পেয়েছিল খুজি।
তাই জীবনের প্রথম বেলায় ডাকিয়া আনিল সাঁঝ,
হায় অভাগিনী আপনি পরিল মরণ-বিষের তাজ।
মরিবার কালে তোরে কাছে ডেকে কহিল, বাছারে যাই,
বড় ব্যথা র’ল, দুনিয়াতে তোর মা বলিতে কেহ নাই;
দুলাল আমার, যাদুরে আমার, লক্ষী আমার ওরে,
কত ব্যথা মোর আমি জানি বাছা ছাড়িয়া যাইতে তোরে।
ফোঁটায় ফোঁটায় দুইটি গন্ড ভিজায়ে নয়নজলে,
কী জানি আশিস করে গেল তোরে মরণব্যথার ছলে।
ক্ষণপরে মোরে ডাকিয়া কহিল আমার কবর গায়
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরুছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকিমেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!
স্বামীর মাথার মাথালখানিরে ঝুলাইয়া দিও বায়।
সেই যে মাথাল পচিয়া গলিয়া মিশেছে মাটির সনে,
পরাণের ব্যথা মরে নাকো সে যে কেঁদে ওঠে ক্ষণে ক্ষণে।
জোড়মানিকেরা ঘুমায়ে রয়েছে এইখানে তরুছায়,
গাছের শাখারা স্নেহের মায়ায় লুটায়ে পড়েছে গায়।
জোনকিমেয়েরা সারারাত জাগি জ্বালাইয়া দেয় আলো,
ঝিঁঝিরা বাজায় ঘুমের নূপুর কত যেন বেসে ভালো।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, রহমান খোদা! আয়;
ভেস্ত নসিব করিও আজিকে আমার বাপ ও মায়!
এখানে তোর বুজির কবর, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণবীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।
বিয়ে দিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি বনিয়াদি ঘর পেয়ে।
এত আদরের বুজিরে তাহারা ভালবাসিত না মোটে,
হাতেতে যদিও না মারিত তারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
খবরের পর খবর পাঠাত, দাদু যেন কাল এসে
দুদিনের তরে নিয়ে যায় মোরে বাপের বাড়ির দেশে।
শ্বশুর তাহার কশাই চামার, চাহে কি ছাড়িয়া দিতে
অনেক কহিয়া সেবার তাহারে আনিলাম এক শীতে।
সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে ফোটে না সেথায় হাসি,
কালো দুটি চোখে রহিয়া রহিয়া অশ্রু উঠিছে ভাসি।
বাপের মায়ের কবরে বসিয়া কাঁদিয়া কাটাত দিন,
কে জানিত হায়, তাহারও পরাণে বাজিবে মরণবীণ!
কী জানি পচানো জ্বরেতে ধরিল আর উঠিল না ফিরে,
এইখানে তারে কবর দিয়েছি দেখে যাও দাদু! ধীরে।
ব্যথাতুরা সেই হতভাগিনীরে বাসে নাই কেহ ভালো,
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বুজীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।
কবরে তাহার জড়ায়ে রয়েছে বুনো ঘাসগুলি কালো।
বনের ঘুঘুরা উহু উহু করি কেঁদে মরে রাতদিন,
পাতায় পাতায় কেঁপে উঠে যেন তারি বেদনার বীণ।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ দাদু, আয় খোদা! দয়াময়।
আমার বুজীর তরেতে যেন গো বেস্ত নসিব হয়।
হেথায় ঘুমায় তোর ছোট ফুপু, সাত বছরের মেয়ে,
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।
রামধনু বুঝি নেমে এসেছিল ভেস্তের দ্বার বেয়ে।
ছোট বয়সেই মায়েরে হারায়ে কী জানি ভাবিত সদা,
অতটুকু বুকে লুকাইয়াছিল কে জানিত কত ব্যথা!
ফুলের মতন মুখখানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে,
তোমার দাদির ছবিখানি মোর হদয়ে উঠিত ছেয়ে।
বুকেতে তাহারে জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা,
রঙিন সাঁঝেরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা।
একদিন গেনু গজনার হাটে তাহারে রাখিয়া ঘরে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধরধর বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুমভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,
ফিরে এসে দেখি সোনার প্রতিমা লুটায় পথের পরে।
সেই সোনামুখ গোলগাল হাত সকলি তেমন আছে।
কী জানি সাপের দংশন পেয়ে মা আমার চলে গেছে।
আপন হস্তে সোনার প্রতিমা কবরে দিলাম গাড়ি,
দাদু! ধরধর বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।
এইখানে এই কবরের পাশে আরও কাছে আয় দাদু,
কথা কস নাকো, জাগিয়া উটিবে ঘুমভোলা মোর যাদু।
আস্তে আস্তে খুঁড়ে দেখ দেখি কঠিন মাটির তলে,
ওই দূর বনে সন্ধ্যা নামিয়ে ঘন আবিরের রাগে,
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যুব্যথিত প্রাণ।
অমনি করিয়া লুটায়ে পড়িতে বড় সাধ আজ জাগে।
মজিদ হইতে আযান হাঁকিছে বড় সুকরুণ সুরে,
মোর জীবনের রোজকেয়ামত ভাবিতেছি কত দূরে।
জোড়হাত দাদু মোনাজাত কর, আয় খোদা! রহমান।
ভেস্ত নসিব করিও সকল মৃত্যুব্যথিত প্রাণ।
ডান্স ডান্স ডান্স
----------------------------------বাকঝাল
আয়রে লাকী, আযরে চৈতি
আয়রে আমার প্রভা, প্রাচী
আয়রে দোলে কাপড় খুলে
উদাম তালে নাচি
নতুন আসল ঐশী এবার
তাকেও দে চান্স
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
আয়রে আমার প্রভা, প্রাচী
আয়রে দোলে কাপড় খুলে
উদাম তালে নাচি
নতুন আসল ঐশী এবার
তাকেও দে চান্স
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
আয়রে আমার এমরান সরকার
আয়রে আমার জাফর স্যার
নাটের গুরু তোমরা থাকলে
চাইনা কিছু আর
দেহ মন উজাড় করে
নাচব শুধু আজ
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
আয়রে আমার জাফর স্যার
নাটের গুরু তোমরা থাকলে
চাইনা কিছু আর
দেহ মন উজাড় করে
নাচব শুধু আজ
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
আয় পরিমল, আয়রে আমার পান্না
তসলিমকেও সংগে আানিস একলা আসিসনা
জলতরংগে জলকেলি হোক লোকে বলাবলি
দেহ মন উতাল হল উচ্ছন্নে যাব আজ
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
তসলিমকেও সংগে আানিস একলা আসিসনা
জলতরংগে জলকেলি হোক লোকে বলাবলি
দেহ মন উতাল হল উচ্ছন্নে যাব আজ
দে দে দেরে সবাই ডান্স ডান্স ডান্স
প্রাণহীন সৃষ্টি
আমার গানের খাঁচায়
বন্দী যে সব কথা
তারা হারালে প্রাণ
কেউ গাইবে না গান।
বন্দী যে সব কথা
তারা হারালে প্রাণ
কেউ গাইবে না গান।
আমার কাব্যের স্তবকে
সজ্জিত যে সব কুসুম
জখম হলেই তারা
কবিতা হবে দিশাহারা।
সজ্জিত যে সব কুসুম
জখম হলেই তারা
কবিতা হবে দিশাহারা।
আমার প্রবন্ধের মাঝে
বিরাজিত যে সব শব্দ
উচ্চারিত হলেই ভুল
সুবাস হারাবে ফুল।
বিরাজিত যে সব শব্দ
উচ্চারিত হলেই ভুল
সুবাস হারাবে ফুল।
চেনা সুরে নতুন গান
হাজার অজানা তারার মাঝে
উজ্জ্বল যেমন শশী
অচেনা গানের চেয়ে চেনা সুর
আমার পছন্দের বেশি।
উজ্জ্বল যেমন শশী
অচেনা গানের চেয়ে চেনা সুর
আমার পছন্দের বেশি।
চেনা গান আমার
অস্থির করে মন
ভরিয়ে দেয় চিত্ত
জ্যোছনা যেমন।
অস্থির করে মন
ভরিয়ে দেয় চিত্ত
জ্যোছনা যেমন।
তাই আমি ঘুমের
মাঝেও দেখি স্বপন
চেনা সুর দিয়েই তৈরি হয়েছে
নতুন গানের গঠন।
মাঝেও দেখি স্বপন
চেনা সুর দিয়েই তৈরি হয়েছে
নতুন গানের গঠন।
মন কষাকষি
আমার ভাবনাগুলো উড়ে যেতে যায়
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে,
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে,
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
এই নিয়ে হয় প্রিয়ার সাথে
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
অথচ সে কিন্তু নিজের বেলায়
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।
মন কষাকষি
আমার ভাবনাগুলো উড়ে যেতে যায়
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে,
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে,
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
এই নিয়ে হয় প্রিয়ার সাথে
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
অথচ সে কিন্তু নিজের বেলায়
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।
অলীক ভাবনা
আমি পথভ্রান্ত পথিকের কাছে
জানতে চাইব ঠিকানা,
দগ্ধ হলেও অন্তরে অন্তরে
গেঁথে নেব সব নিশানা।
জানতে চাইব ঠিকানা,
দগ্ধ হলেও অন্তরে অন্তরে
গেঁথে নেব সব নিশানা।
নিশানাগুলো হবে
কিছু অলীক কিছু বা বাস্তব,
ভালবাসা কিন্তু হলেও অলীক
বাস্তবে করব তার অনুভব।
কিছু অলীক কিছু বা বাস্তব,
ভালবাসা কিন্তু হলেও অলীক
বাস্তবে করব তার অনুভব।
তার কাছে অতীতকে ভুলে
ভবিষ্যতকে চাইব জানতে,
এমন কোন উপায় আছে কি
পৃথিবীর কোন প্রান্তে?
ভবিষ্যতকে চাইব জানতে,
এমন কোন উপায় আছে কি
পৃথিবীর কোন প্রান্তে?
হয়ত বা থাকলেও তা হবে
কিছুটা অলীক কিছুটা বাস্তব
যার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভাবব আমি
অসম্ভবও হবে কখনো সম্ভব।
কিছুটা অলীক কিছুটা বাস্তব
যার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভাবব আমি
অসম্ভবও হবে কখনো সম্ভব।
আমার আকাঙ্ক্ষা
যে ফুল ফোটে নিত্য বাগানে
করি না তারে আদর,
যারে পেতে গেলে যেতে হয় বনে
তারই বুঝি কদর।
করি না তারে আদর,
যারে পেতে গেলে যেতে হয় বনে
তারই বুঝি কদর।
যে আকাশ ঝুঁকে রোজ নেমে আসে
শুভ্র মেঘের বেশে,
তারে ছেড়ে আমি নীলাকাশ চাই
অচিনপুরের দেশে।
শুভ্র মেঘের বেশে,
তারে ছেড়ে আমি নীলাকাশ চাই
অচিনপুরের দেশে।
এমনই আমার বাসনা সমূহ
পাই না যারে তারে চাই,
অমূল্য রত্ন চক্ষের সম্মুখে
উপলব্ধ হলেও ফিরাই।
পাই না যারে তারে চাই,
অমূল্য রত্ন চক্ষের সম্মুখে
উপলব্ধ হলেও ফিরাই।
বৃক্ষের পরার্থপরতা
দুঃখের কথাগুলো
যেই বললেম নদীকে ,
ফোঁস করে উঠে ঢেউ তুলে সে
চলে গেল ভিন্ন দিকে।
যেই বললেম নদীকে ,
ফোঁস করে উঠে ঢেউ তুলে সে
চলে গেল ভিন্ন দিকে।
আমার অসীম কষ্টগুলো
মনে হল আকাশ বুঝেছিল,
কিন্তু সেও সাদা সাদা মেঘ হয়ে
বৃষ্টি না দিয়ে উড়ে গেল।
মনে হল আকাশ বুঝেছিল,
কিন্তু সেও সাদা সাদা মেঘ হয়ে
বৃষ্টি না দিয়ে উড়ে গেল।
আর যা শুনেছিল
এক অশীতিপর বৃক্ষ অজ্ঞাতসারে,
ফুলের সৌরভ করে তাই সে
বিলিয়ে দিল সবারে।
এক অশীতিপর বৃক্ষ অজ্ঞাতসারে,
ফুলের সৌরভ করে তাই সে
বিলিয়ে দিল সবারে।
গ্রহণের অভিশাপ
পাব না যারে জীবনে তারে
যদি বা ভালবাসি,
সুখের বদলে কপালে লেখা
থাকবে দুঃখের রাশি।
যদি বা ভালবাসি,
সুখের বদলে কপালে লেখা
থাকবে দুঃখের রাশি।
পাচ্ছি যারে জীবনে তারে
যদি না করি গ্রহণ
সুখ এলেও ছায়ায় ঢাকবে
দুঃখ কষ্টের গ্রহণ।
যদি না করি গ্রহণ
সুখ এলেও ছায়ায় ঢাকবে
দুঃখ কষ্টের গ্রহণ।
তোমার উদারতা
আমি কৃপণ অতি কৃপণ
ভাবনাগুলো পারিনা উড়িয়ে দিতে,
তুমি সজ্জন অতি সজ্জন
মুখিয়ে থাকো ভালবাসা পেতে।
ভাবনাগুলো পারিনা উড়িয়ে দিতে,
তুমি সজ্জন অতি সজ্জন
মুখিয়ে থাকো ভালবাসা পেতে।
আমার চোখে মেঘ আসলেও
নামে না অশ্রুর বাঁধভাঙা ঢল,
আর তাই না দেখেই তোমার চক্ষু
অজানতেই ওঠে করে ছলছল।
নামে না অশ্রুর বাঁধভাঙা ঢল,
আর তাই না দেখেই তোমার চক্ষু
অজানতেই ওঠে করে ছলছল।
আমি ভাবি ভালবাসা দিলে
প্রতিদানে কিছু অবশ্যই পাব
তুমি কিছু পাওয়ার আগেই
দেওয়ার কথা নিশ্চিত ভাব।
প্রতিদানে কিছু অবশ্যই পাব
তুমি কিছু পাওয়ার আগেই
দেওয়ার কথা নিশ্চিত ভাব।
মধ্য শরতে বৃষ্টি
টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
মনে হয় না এ শরতের মাস,
নদীর ধারে কাঁদতে কাঁদতে
কেমন যেন ঝিমোচ্ছে কাশ।
মনে হয় না এ শরতের মাস,
নদীর ধারে কাঁদতে কাঁদতে
কেমন যেন ঝিমোচ্ছে কাশ।
চাঁদ উঠল না কোজাগরীতে
মেঘে ঢেকেছে সারাটা আকাশ,
বৃষ্টির বেগ ক্রমশঃ বাড়িয়ে
বয়েই চলছে ঠাণ্ডা বাতাস।
মেঘে ঢেকেছে সারাটা আকাশ,
বৃষ্টির বেগ ক্রমশঃ বাড়িয়ে
বয়েই চলছে ঠাণ্ডা বাতাস।
এ যেন কোণ শরতকাল নয়
সোনালি রোদের নেইকো বাহার,
থরে থরে সৌন্দর্য নিয়ে
উপস্থত হয়নি শিউলিও তার।
সোনালি রোদের নেইকো বাহার,
থরে থরে সৌন্দর্য নিয়ে
উপস্থত হয়নি শিউলিও তার।
হৃদয়ের ঘরে চুরি
কোন এক নিশুতি রাতে
চুরি হয়েছিল আমার ঘরে,
চোর যে আমার আপন কেউ
সে কথা আমি বলি বা কারে।
চুরি হয়েছিল আমার ঘরে,
চোর যে আমার আপন কেউ
সে কথা আমি বলি বা কারে।
সে যে নিয়েছিল সর্বস্ব আমার
আজও সে কথা করে অস্বীকার,
আমারও হয়েছে মতিভ্রম
হাতড়ে মরি বন্ধ দুয়ার।
আজও সে কথা করে অস্বীকার,
আমারও হয়েছে মতিভ্রম
হাতড়ে মরি বন্ধ দুয়ার।
এখন ভীষণ মন কষাকষি
কে আগে নিঃস্ব করেছি কারে,
যদিও হয়েছি দুজনেই সমৃদ্ধ
এ কথা জানাই অতি চুপিসারে।
কে আগে নিঃস্ব করেছি কারে,
যদিও হয়েছি দুজনেই সমৃদ্ধ
এ কথা জানাই অতি চুপিসারে।
শরতের অতিথি
আর ফুটছে না কদম বকুল
চলার পথে রাস্তার ধারে,
এখন ফুটছে শিউলির দল
গাছের পরে থরে থরে।
চলার পথে রাস্তার ধারে,
এখন ফুটছে শিউলির দল
গাছের পরে থরে থরে।
আর ঢাকছে না ইন্দু এখন
কৃষ্ণকালো মেঘের তলে,
ক্বচিৎ কদাচিৎ শুভ্র মেঘ
ভেজাচ্ছে ছিটেফোঁটা জলে।
কৃষ্ণকালো মেঘের তলে,
ক্বচিৎ কদাচিৎ শুভ্র মেঘ
ভেজাচ্ছে ছিটেফোঁটা জলে।
এখন শুধু কাশের দল
হাসছে নদীর কিনার ধরে,
ঢেউগুলো তার হয়েছে ক্ষীণ
বইছে না আর তেমন জোরে।
হাসছে নদীর কিনার ধরে,
ঢেউগুলো তার হয়েছে ক্ষীণ
বইছে না আর তেমন জোরে।
শারদীয় বসন্ত
আমার কণ্ঠে ঝরে বসন্তের সুর
যদিও এখন শরতকাল,
শিউলি ফুলের বৃন্তগুলো
লজ্জায় রেঙে হয়েছে লাল।
যদিও এখন শরতকাল,
শিউলি ফুলের বৃন্তগুলো
লজ্জায় রেঙে হয়েছে লাল।
কৃষ্ণচূড়া দর্শন দেবে
যদিও আরও ক’মাস পরে,
অধৈর্য হয়ে উঠেছে চিত্ত
মন টেকেনা আর যে ঘরে।
যদিও আরও ক’মাস পরে,
অধৈর্য হয়ে উঠেছে চিত্ত
মন টেকেনা আর যে ঘরে।
কাশফুল তার নিজস্ব ভঙ্গিতে
নদীর পাড়ে বিদ্যমান,
সোনালি ধানে ঢেউ লেগেছে
মধুকর মধু করছে পান।
নদীর পাড়ে বিদ্যমান,
সোনালি ধানে ঢেউ লেগেছে
মধুকর মধু করছে পান।
এমনও দিনে রই কি করে
ঘরের ভিতর বদ্ধ দ্বারে,
বুলবুলিতে গান ধরেছে
ধানের ক্ষেতে সুরে সুরে।
ঘরের ভিতর বদ্ধ দ্বারে,
বুলবুলিতে গান ধরেছে
ধানের ক্ষেতে সুরে সুরে।
হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি
আমি আজও খুঁজি
সেই শান্ত দুপুর
যখন শুনে
তোমার নূপুর
হারিয়ে যেতেম সহজে,
কিন্তু সে কি আর
আসে বারবার
তখন ছিল
জীবন সরল আর
এখন হয়েছে জটিল যে।
সেই শান্ত দুপুর
যখন শুনে
তোমার নূপুর
হারিয়ে যেতেম সহজে,
কিন্তু সে কি আর
আসে বারবার
তখন ছিল
জীবন সরল আর
এখন হয়েছে জটিল যে।
আমি আজও খুঁজি সেই
সন্ধ্যাবেলা
যখন করতাম
আমরা খেলা
আলো আঁধারে লুকোচুরি,
যদিও তখন
ছিল কৈশোর
তবুও তা মনে
থাকবে জীবনভর
বয়স বাড়লেও কয়েক কুড়ি।
সন্ধ্যাবেলা
যখন করতাম
আমরা খেলা
আলো আঁধারে লুকোচুরি,
যদিও তখন
ছিল কৈশোর
তবুও তা মনে
থাকবে জীবনভর
বয়স বাড়লেও কয়েক কুড়ি।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)