এখলাছ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
এখলাছ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রাণহীন সৃষ্টি


আমার গানের খাঁচায়
বন্দী যে সব কথা
তারা হারালে প্রাণ
কেউ গাইবে না গান।
আমার কাব্যের স্তবকে
সজ্জিত যে সব কুসুম
জখম হলেই তারা
কবিতা হবে দিশাহারা।
আমার প্রবন্ধের মাঝে
বিরাজিত যে সব শব্দ
উচ্চারিত হলেই ভুল
সুবাস হারাবে ফুল।

চেনা সুরে নতুন গান


হাজার অজানা তারার মাঝে
উজ্জ্বল যেমন শশী 
অচেনা গানের চেয়ে চেনা সুর
আমার পছন্দের বেশি।
চেনা গান আমার
অস্থির করে মন
ভরিয়ে দেয় চিত্ত
জ্যোছনা যেমন।
তাই আমি ঘুমের
মাঝেও দেখি স্বপন
চেনা সুর দিয়েই তৈরি হয়েছে
নতুন গানের গঠন।

মন কষাকষি


আমার ভাবনাগুলো উড়ে যেতে যায়
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে, 
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
এই নিয়ে হয় প্রিয়ার সাথে
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
অথচ সে কিন্তু নিজের বেলায়
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।

মন কষাকষি


আমার ভাবনাগুলো উড়ে যেতে যায়
চিন্তার সীমা ছাড়িয়ে, 
পারিনা আমি ধরতে তাদের
চেষ্টা করেও হাত বাড়িয়ে।
এই নিয়ে হয় প্রিয়ার সাথে
মন কষাকষি আমার,
কারণ সে বলে আমার মনের
মালিকানা নাকি তার।
অথচ সে কিন্তু নিজের বেলায়
অত্যধিক সচেতন,
প্রবেশ করা তো দূরের কথা
ছুঁতেও দেয়না মন।

অলীক ভাবনা


আমি পথভ্রান্ত পথিকের কাছে
জানতে চাইব ঠিকানা, 
দগ্ধ হলেও অন্তরে অন্তরে
গেঁথে নেব সব নিশানা।
নিশানাগুলো হবে
কিছু অলীক কিছু বা বাস্তব,
ভালবাসা কিন্তু হলেও অলীক
বাস্তবে করব তার অনুভব।
তার কাছে অতীতকে ভুলে
ভবিষ্যতকে চাইব জানতে,
এমন কোন উপায় আছে কি
পৃথিবীর কোন প্রান্তে?
হয়ত বা থাকলেও তা হবে
কিছুটা অলীক কিছুটা বাস্তব
যার মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় ভাবব আমি
অসম্ভবও হবে কখনো সম্ভব।

আমার আকাঙ্ক্ষা


যে ফুল ফোটে নিত্য বাগানে
করি না তারে আদর, 
যারে পেতে গেলে যেতে হয় বনে
তারই বুঝি কদর।
যে আকাশ ঝুঁকে রোজ নেমে আসে
শুভ্র মেঘের বেশে,
তারে ছেড়ে আমি নীলাকাশ চাই
অচিনপুরের দেশে।
এমনই আমার বাসনা সমূহ
পাই না যারে তারে চাই,
অমূল্য রত্ন চক্ষের সম্মুখে
উপলব্ধ হলেও ফিরাই।

বৃক্ষের পরার্থপরতা


দুঃখের কথাগুলো
যেই বললেম নদীকে ,
ফোঁস করে উঠে ঢেউ তুলে সে
চলে গেল ভিন্ন দিকে।
আমার অসীম কষ্টগুলো
মনে হল আকাশ বুঝেছিল,
কিন্তু সেও সাদা সাদা মেঘ হয়ে
বৃষ্টি না দিয়ে উড়ে গেল।
আর যা শুনেছিল
এক অশীতিপর বৃক্ষ অজ্ঞাতসারে,
ফুলের সৌরভ করে তাই সে
বিলিয়ে দিল সবারে।

গ্রহণের অভিশাপ


পাব না যারে জীবনে তারে
যদি বা ভালবাসি, 
সুখের বদলে কপালে লেখা
থাকবে দুঃখের রাশি।
পাচ্ছি যারে জীবনে তারে
যদি না করি গ্রহণ
সুখ এলেও ছায়ায় ঢাকবে
দুঃখ কষ্টের গ্রহণ।

তোমার উদারতা


আমি কৃপণ অতি কৃপণ
ভাবনাগুলো পারিনা উড়িয়ে দিতে, 
তুমি সজ্জন অতি সজ্জন
মুখিয়ে থাকো ভালবাসা পেতে।
আমার চোখে মেঘ আসলেও
নামে না অশ্রুর বাঁধভাঙা ঢল,
আর তাই না দেখেই তোমার চক্ষু
অজানতেই ওঠে করে ছলছল।
আমি ভাবি ভালবাসা দিলে
প্রতিদানে কিছু অবশ্যই পাব
তুমি কিছু পাওয়ার আগেই
দেওয়ার কথা নিশ্চিত ভাব।

মধ্য শরতে বৃষ্টি


টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে
মনে হয় না এ শরতের মাস, 
নদীর ধারে কাঁদতে কাঁদতে
কেমন যেন ঝিমোচ্ছে কাশ।
চাঁদ উঠল না কোজাগরীতে
মেঘে ঢেকেছে সারাটা আকাশ,
বৃষ্টির বেগ ক্রমশঃ বাড়িয়ে
বয়েই চলছে ঠাণ্ডা বাতাস।
এ যেন কোণ শরতকাল নয়
সোনালি রোদের নেইকো বাহার,
থরে থরে সৌন্দর্য নিয়ে
উপস্থত হয়নি শিউলিও তার।

হৃদয়ের ঘরে চুরি


কোন এক নিশুতি রাতে
চুরি হয়েছিল আমার ঘরে, 
চোর যে আমার আপন কেউ
সে কথা আমি বলি বা কারে।
সে যে নিয়েছিল সর্বস্ব আমার
আজও সে কথা করে অস্বীকার,
আমারও হয়েছে মতিভ্রম
হাতড়ে মরি বন্ধ দুয়ার।
এখন ভীষণ মন কষাকষি
কে আগে নিঃস্ব করেছি কারে,
যদিও হয়েছি দুজনেই সমৃদ্ধ
এ কথা জানাই অতি চুপিসারে।

শরতের অতিথি


আর ফুটছে না কদম বকুল
চলার পথে রাস্তার ধারে, 
এখন ফুটছে শিউলির দল
গাছের পরে থরে থরে।
আর ঢাকছে না ইন্দু এখন
কৃষ্ণকালো মেঘের তলে,
ক্বচিৎ কদাচিৎ শুভ্র মেঘ
ভেজাচ্ছে ছিটেফোঁটা জলে।
এখন শুধু কাশের দল
হাসছে নদীর কিনার ধরে,
ঢেউগুলো তার হয়েছে ক্ষীণ
বইছে না আর তেমন জোরে।

শারদীয় বসন্ত


আমার কণ্ঠে ঝরে বসন্তের সুর
যদিও এখন শরতকাল, 
শিউলি ফুলের বৃন্তগুলো
লজ্জায় রেঙে হয়েছে লাল।
কৃষ্ণচূড়া দর্শন দেবে
যদিও আরও ক’মাস পরে,
অধৈর্য হয়ে উঠেছে চিত্ত
মন টেকেনা আর যে ঘরে।
কাশফুল তার নিজস্ব ভঙ্গিতে
নদীর পাড়ে বিদ্যমান,
সোনালি ধানে ঢেউ লেগেছে
মধুকর মধু করছে পান।
এমনও দিনে রই কি করে
ঘরের ভিতর বদ্ধ দ্বারে,
বুলবুলিতে গান ধরেছে
ধানের ক্ষেতে সুরে সুরে।

হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি


আমি আজও খুঁজি
সেই শান্ত দুপুর 
যখন শুনে
তোমার নূপুর
হারিয়ে যেতেম সহজে,
কিন্তু সে কি আর
আসে বারবার
তখন ছিল
জীবন সরল আর
এখন হয়েছে জটিল যে।
আমি আজও খুঁজি সেই
সন্ধ্যাবেলা
যখন করতাম
আমরা খেলা
আলো আঁধারে লুকোচুরি,
যদিও তখন
ছিল কৈশোর
তবুও তা মনে
থাকবে জীবনভর
বয়স বাড়লেও কয়েক কুড়ি।

রেড সিগনাল

দিন গেল যাক না
খাবে কতো খাক না
আর ক'টা দিন তুই
চুপচাপ থাক না।
ক'দিন আর মস্তির!
কেনো এতো অস্থির
হতে দে যাই হোক
দম নে সস্তির।
সময় ঘনালে আর যায় নাতো থাকা
মরার সময় গজে পিঁপড়ার পাখা।

বেদনার দিঘী

বেদনার দিঘী 

আমার একটা বেদনার দিঘী ছিল 
দেখতে দেখতে ওটা সাগর হয়ে গেল।
শুনেছি তখন আমার দুই বছর-
অহিংসার সাধক আমার বাবা পুড়ে গেল বন্ধুর হিংসাযজ্ঞে,
জীবনে পায়নি ‘বুদ্ধ-শান্তি’, মরণে পেল
আমার বেদনার ছোট্ট দিঘীটাও সেইদিনই তৈরী হল।
তারপর মা, আমার চিরবঞ্চিত-শৈশবের সর্বত্রাতা বিপদনাশিনী মা,
স্বামীর লাল চিতা নিবে গেছে ঠিকই,
কিন্তু শাড়ি বেয়ে সাদা আগুন লেগে গেছে সমস্ত সত্ত্বায়
দশদিক ভরে গেছে পাহাড়ের মত অনড় শ্বেত-আগুনে
পড়শি পুরুষের ছোঁক-ছোঁক, স্বামীর ভিটায় আত্মীয়দের চোখ,
অর্ধাহারে শিশুপুত্র - কতবার যে সতীদাহ হল
মাথার আর কী দোষ – এভাবে কতদিন ঠিক থাকে?
তাও দিন কাটছিল,
কিন্তু যেদিন মা সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেল
আমার বেদনার দিঘীটা একলাফে নদীর রূপ নিল।
দেখতে দেখতে দেড় যুগ হতে চলল-
প্রতি বছরের মত চৈত্রসংক্রান্তিতে পুকুরে নেমে ডাব খাব, হঠাৎ -
ডাবের জলে একটা ছায়া – একটা জলরঙা মেয়ের ঘোর লাগানো ছায়া
ও এল, জলের মতই কলকল উচ্ছ্বল – আমার নিবু এল,
কিছুই না-পাওয়া জীবনে এই প্রথম বুঝলাম - পাওয়া কাকে বলে
টের পেলাম অলির আনন্দ
কদিনের জন্য বেদনার নদীটা আমার শুকিয়েই গেল ।
যাবার সময় জোড়া শালিক সাক্ষী করে নিবু বলে গেল-
আসছে চৈত্রসংক্রান্তিতে তোমাদের সিঁদুরে আমগাছতলায় সিঁদুর পড়ব
কণ্ঠীবদলের পালা হবে।
অলির আনন্দ শেষে শুরু হল চাতকের আকাশ চাওয়া
হায়, একে একে কেঁটে গেল আঠারোটি সংক্রান্তি-
সিঁদুরে আমগাছে সিঁদুরে আম ধরে
সিঁদুর পড়া কেউ আসে না – আমার একলা ঘরে।
এই আঠারো বছরে আমার বেদনার নদীটা আঠারোটি সাগর হয়ে গেছে। 

অভিশাপ

অভিশাপ

যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি'
যেদিন আমায় খুঁজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,
কাহার যেন চেনা-ছোওয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে, -
জাগবে হঠাৎ চমকে!
ভাববে বুঝি আমিই এসে
ব'সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!
বেদনাতে চোখ বুজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
গাইতে ব'সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,
ব'লবে সবাই - "সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?"
আসবে ভেঙে কান্না!
প'ড়বে মনে আমার সোহাগ,
কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!
প'ড়বে মনে অনেক ফাঁকি
অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি
ঘন ঘন মুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ'রবে তোমার অঙ্গন,
তুলতে সে-ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ -
কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!
শিউলি ঢাকা মোর সমাধি
প'ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি'!
বুকের মালা ক'রবে জ্বালা
চোখের জলে সেদিন বালা
মুখের হাসি ঘুচবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
হঠাৎ করে
গভীর রাতে
ফুটল তোমার
প্রেমের ফুল
সেই রাতেই
সেই ফুলের মাঝে
বসেই আমি
পেলাম কত সুখ ।
প্রেম দিয়ে কি প্রেম পাওয়া যায়
ভালবাসা দিয়ে সুখ।
প্রেমের ভিতর লুকিয়ে আছে
অসা‌‌ণ্তি নামক ভৃত ।
ভালবাসা দিয়ে কি
ভালবাসা পাওয়া যায় ।
প্রেম দিয়ে সুখ
ভালবাসার ভিতর লুকিয়ে আছে
অসা‌‌ণ্তি নামক ভৃত ।
অনদকার হৃদয়ের মাঝে
কে তুমি দিতে পার 
জালিয়ে মুমের আলো ।
সেই আলোতেই 
দেখে নেব আমি
কে মোরে ভাস গো ভাল ।